২১ অক্টোবর ২০২৬

ভিটামিন সি খেলেই কি সর্দি-কাশি সারে? কী বলছে গবেষণা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ভিটামিন সি খেলেই কি সর্দি-কাশি সারে? কী বলছে গবেষণা

শীতের আমেজ শুরু হতেই ঠান্ডা-সর্দি থেকে বাঁচতে ভিটামিন সি খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  শীতের আমেজ শুরু হতেই ঠান্ডা-সর্দি থেকে বাঁচতে ভিটামিন সি খাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। ফার্মেসি কিংবা সুপারশপগুলোর তাক ভরে ওঠে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টে। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রতিদিন নিয়ম করে অতিরিক্ত ভিটামিন সি খাওয়ার এই ধারণাটি আসলে কোথা থেকে এসেছে?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর পেছনে রয়েছে একজন নোবেলজয়ীর বই এবং কিছু অতিরঞ্জিত দাবি, যার সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের পুরোপুরি মিল পাওয়া যায় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক ভিটামিন সি নিয়ে প্রচলিত ধারণার আসল রহস্য। 

ধারণাটির সূত্রপাত যেভাবে 

মার্কিন রসায়নবিদ লিনুস পোলিং দুটি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন—একটি ১৯৫৪ সালে রসায়নে এবং অন্যটি ১৯৬২ সালে শান্তিতে। তিনি কোনো পুষ্টিবিদ বা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তবুও ১৯৭০ সালে তিনি ভিটামিন সি ও সর্দি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন।

সে সময় তার বইটিতে প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ২,০০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এই বইয়ের কারণেই মূলত ভিটামিন সি-এর বিক্রি আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। 

তবে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীরা জানান, পোলিংয়ের সেই দাবিটি ত্রুটিপূর্ণ বিশ্লেষণ এবং দুর্বল কিছু গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। 

অতিরিক্ত ভিটামিন সি কি আসলেই কাজ করে?

গবেষণা বলছে, উত্তর হলো ‘পুরোপুরি নয়’। সর্দি-কাশি থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে ভিটামিন সি জাদুর মতো কাজ করে না। সাম্প্রতিক কিছু বড় গবেষণার ফলাফল নিচে তুলে ধরা হলো: 

সর্দি হওয়ার ঝুঁকি কমে না: নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে আপনার ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমবে—এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। 

লক্ষণ কিছুটা কমে: যারা নিয়মিত ভিটামিন সি খান, তাদের ক্ষেত্রে তীব্র সর্দি বা ঠান্ডার লক্ষণগুলো ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম সময় স্থায়ী হতে পারে। সহজ কথায়, সর্দি যদি ৫ দিন থাকে, তবে তা বড়জোর ১২ ঘণ্টার মতো কমতে পারে। 

লক্ষণ শুরুর পর খেলে লাভ নেই: সর্দি বা কাশি শুরু হওয়ার পরে ভিটামিন সি খাওয়া শুরু করলে কোনো উপকার পাওয়া যায় না। সুফল পেতে হলে রোগ হওয়ার আগে থেকেই এটি নিয়মিত খেতে হবে। তবে ক্রীড়াবিদ বা সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে এর কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। 

দৈনিক কতটুকু ভিটামিন সি নিরাপদ?

অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ২,০০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি খাওয়া নিরাপদ নয়।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি খাওয়ার বিপদ

নিয়মিত অতিরিক্ত মাত্রায় (প্রতিদিন ১,০০০ মিলিগ্রামের বেশি) ভিটামিন সি গ্রহণ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এর ফলে যেসব সমস্যা হতে পারে:

  • ডায়রিয়া, বমি ভাব, পেটে ক্র্যাম্প ও পেট ফাঁপা। 
  • অতিরিক্ত অক্সালেট শরীর থেকে বের হওয়ার কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়া। 
  • শরীরে অতিরিক্ত লোহা শোষিত হয়ে টিস্যুর ক্ষতি করা। 
  • কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করা।

পরিশেষে, প্রাকৃতিকভাবে ফলমূল ও শাকসবজি থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। হুট করেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করা থেকে বিরত থাকুন। 
বিপি > এসপি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি