৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী অর্থবছরে ১২.৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য: স্পিকার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী অর্থবছরে ১২.৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য: স্পিকার

ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ার আলোচনার মধ্যে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি-রপ্তানির তথ্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ত্রিংশ ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর আওতায় বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের কথা জানানো হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তিতে (এআরটি) সই করে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল (তুলা ও কৃত্রিম তন্তু) আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না বলে শর্ত যুক্ত করা হয়।

বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করে।

চুক্তির ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বাতিল হলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের কোনো উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।

এআরটি চুক্তির আগে ২০২৪ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট প্রায় ১১.৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য হয়।

এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এআরটি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার ইংগিত মিলেছে চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) তথ্যে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে।

এই হিসাবে তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি বেড়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।

উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, সরকার এ জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে।

‘আমার নির্বাচনি এলাকা ভোলার একটি দ্বীপ, যেখানে বিশাল গ্যাসের মজুদ রয়েছে—৭ টিসিএফ-এরও বেশি প্রমাণিত গ্যাস মজুদ রয়েছে। আমরা এটি অনুভব করি যে উপকূলীয় এলাকায়, বঙ্গোপসাগরে তেলের মজুদ থাকতে পারে।’

‘আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার মানসম্পন্ন তেল ও গ্যাস পেয়েছে। আমি নিশ্চিত যে উপযুক্ত প্রয়াস এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হলে বাংলাদেশও একদিন তেল-সমৃদ্ধ, গ্যাস-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে এবং ততদিনে আমাদের সব দুর্ভোগ কেটে যাবে।’
বিপি > এসপি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি