৩১ অক্টোবর ২০২৬

২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির দায় স্বীকার ভারতীয় নাগরিকের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির দায় স্বীকার ভারতীয় নাগরিকের

২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় দোষ স্বীকার সৈয়দ মুর্তুজা কাবলাজাদার

আবু সাবেত: পাকিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য কিনে সরবরাহ না করা কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটের নামে ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের (২২৭ মিলিয়ন ডলার) মেডিকেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন এক ভারতীয় নাগরিক। পাকিস্তানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য কিনে সেসব তথ্য ব্যবহার করে কখনো সরবরাহ করা হয়নি এমন কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটের জন্য ভুয়া বিল জমা দেওয়ার মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়।

আদালতের নথি ও শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সৈয়দ মুর্তুজা কাবলাজাদা (৩৬) ভারতের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেস প্লেইনসে বসবাস করেন। তিনি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এমন সব কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটের জন্য ভুয়া বিল জমা দেন, যেগুলো সুবিধাভোগীরা কখনো চাননি এবং তাঁদের কাছে সরবরাহও করা হয়নি।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের মধ্যে কাবলাজাদা ও তাঁর সহযোগীরা শিকাগো এলাকার তিনটি পরীক্ষাগার—শিকাগো কেয়ার, ভি কেয়ার এবং আল-আমির—অধিগ্রহণ করেন। এরপর পাকিস্তানভিত্তিক একটি কথিত টেলিমার্কেটিং প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার দিয়ে কয়েক লাখ মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন।

এসব তথ্য ব্যবহার করে কাবলাজাদা পরীক্ষাগারগুলোর মাধ্যমে মেডিকেয়ারের কাছে মোট ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেন। এর বিপরীতে মেডিকেয়ার কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করে।

তদন্তে জানা যায়, জালিয়াতির সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতে কাবলাজাদা ও তাঁর সহযোগীরা বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং লাইসেন্সবিহীন অর্থ প্রেরণকারীদের মাধ্যমে নিজেদের অর্থ প্রদান করেন। জালিয়াতির অর্থের একটি অংশ দিয়ে তাঁরা বিলাসবহুল গাড়িও কেনেন।

দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জব্দ করা ১০টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বাজেয়াপ্ত করতে সম্মত হয়েছেন কাবলাজাদা।

তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। এসব অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের সাজা নির্ধারণসংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড, এফবিআইয়ের শিকাগো ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ রায়ান হোয়েলেন এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ থমাস এথরিজ যৌথভাবে এ তথ্য ঘোষণা করেন।

মামলাটির তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের শিকাগো ফিল্ড অফিস এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি)।

মামলাটি পরিচালনা করছেন বিচার বিভাগের জালিয়াতি বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি শাখার ডেপুটি চিফ প্যাট্রিক মট এবং ট্রায়াল অ্যাটর্নি ক্লেয়ার সোবজাক প্যাসেলি। তদন্ত ও মামলা পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন ইলিনয়ের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি আন্দ্রেস আলমেনদারেজ।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নতুন জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠনের ঘোষণা দেয়। এই বিভাগের মূল লক্ষ্য মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতারণা ও জালিয়াতির তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা।

বিচার বিভাগের এসব কার্যক্রম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ফেডারেল কর্মসূচিতে জালিয়াতি নির্মূলসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমকে সহায়তা করছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন এই টাস্কফোর্সের উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করা।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মিলিতভাবে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল বিচারিক এলাকায় নয়টি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন দল কাজ করছে। পাশাপাশি মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি