৩ অক্টোবর ২০২৬

৪ বছরের মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করলেন মা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
৪ বছরের মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করলেন মা

বাবা অ্যারন ও মা সিবেলের সঙ্গে ভিভিয়ান।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সন্তানের আইনি অভিভাবকত্ব হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজের ছোট্ট মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক নারী। চার বছর বয়সী শিশুকন্যাকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হিউস্টন শহরের একটি আবাসিক বাড়ির তৃতীয় তলায় পৌঁছায়। সেদিন রাতে তার চার বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়ানকে তার প্রাক্তন স্বামী অ্যারন সাভেলার কাছে তাকে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

শিশুটির মা সিবেল সাভেলার বয়স ৩৫ বছর। কিন্তু হস্তান্তর প্রক্রিয়ার আগেই সিবেল মেয়েকে গুলি করেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে হিউস্টন পুলিশের লেফটেন্যান্ট ল্যারি ক্রোসন বলেন, ‘আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত একটি শুনানি ছিল কিন্তু রায় মায়ের পক্ষে যায়নি।

বাড়ি ফিরে এসে মা তার চার বছরের সন্তানকে গুলি করে এবং নিজের ওপরও গুলি চালায়।’

সাভেলা আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে প্রাথমিকভাবে বেঁচে গেলেও, একদিন পরেই হাসপাতালে তিনি মারা যান। ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত সিবেল সাভেলার সঙ্গে অ্যারন সাভেলার ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের সংসার টিকেছিল। এরপর তাদের একমাত্র সন্তান ভিভিয়ানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালতে তিক্ত আইনি লড়াই শুরু হয়।

হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার মাত্র আট ঘণ্টা আগে মাকে তার সন্তানের সঙ্গে মাতৃভাষা পর্তুগিজে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক উপস্থিত থাকলেই তিনি সন্তানের সঙ্গে পর্তুগিজে কথা বলতে পারতেন। এ ছাড়া তাকে সন্তানের স্কুলের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারতেন না মা। আদালত তার সাবেক স্বামীকে সন্তানের ভরণপোষণের খরচ বহনেরও নির্দেশ দিয়েছিল।

কেন ওই মায়ের ওপর এত কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বা কেন তিনি মেয়ের হেফাজত হারিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাভেলা ২০২০ সালে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যারনকে বিয়ে করেন। ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর মেয়ের হেফাজত নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়।

শোকাহত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভিভিয়ানকে সবাই খুব ভালোবাসত। পরিবারের আইনজীবীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভিভিয়ানের মৃত্যুতে পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মেয়েকে রক্ষা করতে বাবা অ্যারন আদালতের সব নির্দেশ মেনে চলেছিলেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

মঙ্গলবার আদালত ভিভিয়ানকে বাবার তত্ত্বাবধানে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন সন্ধ্যায় ভিভিয়ানের বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে আর ফিরতে পারেনি।

বাবার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পারিবারিক আইন নিয়ে ২৮ বছরের পেশাগত জীবনে এমন ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। আইনজীবী শার্লট রেইনওয়াটার বলেন, ‘মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত কেউই ভাবেননি যে ঘটনাটি এত ভয়াবহ পরিণতি পেতে পারে।’
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি