১৬ আগস্ট ২০২৬

আমেরিকানদের মধ্যে কেন বাড়ছে পারস্পরিক ঘৃণা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম
আমেরিকানদের মধ্যে কেন বাড়ছে পারস্পরিক ঘৃণা

আমেরিকানদের মধ্যে কেন বাড়ছে পারস্পরিক ঘৃণা

ছাবেদ সাথী

মার্কেট ল স্কুল পোলের গবেষকেরা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মানুষের পারস্পরিক আস্থায় প্রজন্মভিত্তিক তীব্র পতনের চিত্র তুলে ধরেছেন। ১৯৬০ সালের আগে জন্ম নেওয়া আমেরিকানদের মধ্যে এখনো একটি মৌলিক বিশ্বাস কাজ করে—সুযোগ পেলেই তাদের প্রতিবেশী তাদের সর্বস্ব লুটে নেবে না। দেশটির বিভিন্ন বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারাই অন্যদের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থাশীল।

কিন্তু পরবর্তী প্রতিটি প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই চিত্র ক্রমেই খারাপ হয়েছে। ২০০০-এর দশকে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের মধ্যে গবেষণাটিতে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ মাত্রার অবিশ্বাস দেখা গেছে। তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এমন এক মানসিকতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন, যেখানে অন্য মানুষকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

এরপর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। চলতি বছরের শুরুতে পিউ রিসার্চ সেন্টার প্রকাশিত ২৫টি দেশের ওপর পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপে দেখা যায়, আমেরিকানরা শুধু একে অপরকে অবিশ্বাসই করছেন না; ক্রমবর্ধমানভাবে তারা নিজ দেশের নাগরিকদের নৈতিকভাবেও অধঃপতিত বলে মনে করছেন। জরিপে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় আমেরিকানদের মধ্যে নিজ দেশের মানুষকে মৌলিকভাবে নৈতিকতাবিবর্জিত হিসেবে দেখার প্রবণতা অনেক বেশি।

বিশেষভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক স্পষ্টভাবে বলেছেন, গড়পড়তা আমেরিকানের নৈতিকতা ও নীতিবোধ খারাপ। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সমাজ তখনই সংকটে পড়ে, যখন অধিকাংশ মানুষ আর বিশ্বাস করেন না যে তাদের সহনাগরিকেরা মৌলিকভাবে ভালো ও শালীন।

নৈতিকতা হচ্ছে সেই মৌলিক ও অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যা মানুষকে মুদি দোকানের পার্কিংয়ের মতো সামান্য বিষয় নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখে। এটি সামাজিক আচরণ ও পারস্পরিক সম্পর্কের নিয়ম নির্ধারণ করে। যখন একটি জনগোষ্ঠী এই অভিন্ন নৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন পুরো সামাজিক চুক্তিই এক ধরনের জিম্মি পরিস্থিতিতে পরিণত হয়।

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!


আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি