১৭ আগস্ট ২০২৬

বেসরকারী খাতে জ্বালানি : জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
বেসরকারী খাতে জ্বালানি : জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে


।। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।
জ্বালানি তেল আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সংকটকালীন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের বিদু্যত ও জ্বালানি মন্ত্রী সম্প্রতি এক সেমিনারে এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে মন্ত্রী প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি অনেকটাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। শিল্পের উৎপাদন, কৃষির সেচ, পণ্য উৎপাদন ও যাত্রী পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন-প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এর ফলশ্রুতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য শুধু একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পের উৎপাদন খরচ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরই প্রধান ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। তবে সময়ের সাথে সাথে দেশের জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা করছে এবং দ্রুততম সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখছে অনেকেই। তবে, এর বিপরিতেই মতামত রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের চাকাকে সচল রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের কোন বিকল্প নাই। তবে দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া আধিপত্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি খাত বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। চলমান এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করার সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি আশার আলো সৃষ্টি করবেই বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বিশেষজ্ঞ ও নীতি নির্ধারকদের অনেকেরই মতে, জ্বালানি সরবরাহে বেসরকারি বিনিয়োগের অবাধ সুযোগ তৈরি হলে বাজার থেকে রাষ্ট্রীয় সংস্থার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বা মনোপলি যেমন কমবে, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রাথমিক জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সহজতর হবে।

তবে, ইতিমধ্যে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হলে তা জনগণের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করবে। তাদের মতে. পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স। তারা এ উদ্যোগকে সরকারের জন্য আত্মঘাতী এবং দেশের জন্য বিপজ্জনক বলেই মনে করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান খারাপ চললে তাকে সংস্কার করা যায়। কিন্তু বেসরকারি কোম্পানি দাম বাড়ালে জনগণের হাতে কিছুই থাকে না। তারা মনে করেন, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে যে উচ্চমূল্যের বেসরকারিকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তার আর্থিক বোঝা এখনো জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের মাধ্যমে নতুন করে লুটেরাদের জন্য লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল সমস্যা কয়লা নয়, বরং আমদানিনির্ভরতা ও বেসরকারিকরণের রাজনৈতিক অর্থনীতি। দেশে আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছর ব্যবহারের মতো কয়লা মজুত থাকার পরও পরিবেশের অজুহাতে তা ব্যবহার না করে উচ্চমূল্যের এলএনজি, আমদানিকৃত কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং জনগণের বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করে আমদানিনির্ভর হওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্বের অনেক শিল্পোন্নত দেশ দীর্ঘদিন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে।

বিশেজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানিকে পণ্য হিসেবে নয়, জাতীয় নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়া উচিত না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। একটি বেসরকারি কোম্পানিকে দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সরকার সেই বাজার কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বালানি খাতে একক বা অতিরিক্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করে এ ধরনের কোন স্ধিান্ত নেয়া ঠিক হবে না। সকলকে মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু উৎপাদন সক্ষমতার সংকট নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের সংকট। দেশীয় কয়লা ও গ্যাসের পরিবেশসম্মত ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।

দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি খাত সরকারের হাতে থাকায় এরই মধ্যে এর ভিতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নানা দুর্নীতির কারণেই বারবার সিস্টেম লস এবং সরকারকে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি গুনতে হয়। সরকার পরিবর্তন হলেও এই গোষ্ঠী বহাল তবিয়তে থেকে য়ায় আর নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো অপরিহার্য। আমদানির অনুমোদন, পণ্যের মান, মজুত সক্ষমতা, মূল্য নির্ধারণ, মুনাফার সীমা এবং বাজারে প্রতিযোগিতা সবকিছু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কঠোর নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। জ্বালানি খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত আর্থিক মূলধন এবং নিজস্ব বা নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণব্যবস্থা থাকতে হবে। তেল খালাসের জন্য আধুনিক জেটি, পরিবহন ও সুসংহত বিতরণ নেটওয়ার্ক থাকাও জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও দেশের বাজারে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ করার সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে রিফাইনারি স্থাপনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে।

কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে রিফাইনারি নির্মাণ করতে চাইলে তাকে সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। একইভাবে জ্বালানি মজুতের আধুনিক অবকাঠামো, পাইপলাইন, টার্মিনাল, পরিবহন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতেও বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন  রাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি কাজ করছে। বাংলাদেশকে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে যেসব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী জ্বালানি পরিশোধন ও অবকাঠামো উন্নয়নে অভিজ্ঞ, তাদের বাংলাদেশে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি করা গেলে এ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসা অসম্ভব নয়।

তবে, সরকারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া না হয়। বরং সরকারের দায়িত্ব তখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, বাজারে প্রতিযোগিতা রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া অবস্থান তৈরি করতে পারছে না এবং ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে মানসম্মত পণ্য পাচ্ছেন। জ্বালানি খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা তাই বৃদ্ধি করা জরুরি। মূল্য নির্ধারণ, পণ্যের মান, আমদানি ব্যয়, মজুত, সরবরাহ, পরিবহন ও বাজার প্রতিযোগিতার প্রতিটি স্তরে কার্যকর নজরদারি থাকতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে কিংবা অস্বাভাবিক মুনাফার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা ব্যবসায়ী হওয়ার চেয়ে রেফারির মতো হওয়া বেশি জরুরি। মাঠে একাধিক খেলোয়াড় থাকবে, কিন্তু নিয়ম সবার জন্য একই হবে। যে প্রতিষ্ঠান ভালো সেবা দেবে, কম খরচে পণ্য সরবরাহ করবে এবং বাজারের চাহিদা দ্রুত পূরণ করবে, প্রতিযোগিতায় সে-ই এগিয়ে থাকবে। এমন পরিবেশ তৈরি করা গেলে জ্বালানি খাতেও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় সুফল নিশ্চিত করা যাবে সরবরাহব্যবস্থায়। বর্তমানে কোনো একটি উৎস বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে সেখানে সমস্যা তৈরি হলে পুরো বাজারে তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু একাধিক আমদানিকারক, রিফাইনারি, সংরক্ষণকারী ও সরবরাহকারী থাকলে একটি প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি অন্য প্রতিষ্ঠান পূরণ করতে পারবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখন আর শুধু কত জ্বালানি আমদানি করা হলো, সে হিসাবই যথেষ্ট নয়। কতটা পরিশোধন সক্ষমতা তৈরি করতে পারলাম, কতটা মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি হলে, সরবরাহ কতটা বহুমুখী হলো এবং বাজার কতটা প্রতিযোগিতামূলক হলো—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির পরিধি যখন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন জ্বালানি খাতকে পুরোনো কাঠামোর মধ্যে আটকে রাখারও এখন আর সুযোগ নাই। রাষ্ট্রের শক্তি থাকা উচিত নীতি ও নিয়ন্ত্রণে, আর বেসরকারি খাতের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতায়। সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোগ—এই দুইয়ের সমন্বয়ই পারে দেশের জ্বালানি খাতকে আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও নিরাপদ করে তুলতে। আর সেই পরিবর্তন শুধু জ্বালানি সংকটই মোকাবিলায় নয়, দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও বৃদ্ধি পাবে।

তবে পুরো প্রক্রিয়ায় জনস্বার্থকে শতভাগ ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করবে—এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু সেই লাভ যেন জনগনের গলার কাটা না হয়। পাশাপশি ভোক্তার অধিকার, ন্যায্য মূল্য, পণ্যের মান এবং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছাড়া জ্বালানি খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রেল ও ওষুধের মতো জনজীবনের অপরিহার্য খাত মুনাফার পণ্যে পরিণত হলে সাধারণ মানুষের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়বে। অতিতের বেসরকারীকরণের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, জনগণের সম্পদ বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। তাই জাতীয় সম্পদ ও জনসেবার খাত বেসরকারীকরণের নীতির ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে।


বিপি/কেজে
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!


আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি