৩ নভেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু রোগীদের জরুরি পরামর্শ: জেনে নিন চিকিৎসকের নির্দেশিকা ও বিপদচিহ্ন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ডেঙ্গু রোগীদের জরুরি পরামর্শ: জেনে নিন চিকিৎসকের নির্দেশিকা ও বিপদচিহ্ন

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে রোগীদের সঠিক চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা সবচেয়ে জরুরি। সঠিক সময়ে নিয়ম মেনে চললে বেশিরভাগ রোগী ঘরে বসেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ঘরে বসে ডেঙ্গু চিকিৎসায় চিকিৎসকদের নির্দেশিকা
১. জ্বর নিয়ন্ত্রণ ও ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা:
জ্বরের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে। ডাক্তারদের কঠোর নির্দেশনা—কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন (Aspirin), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা অন্য কোনো এনএসএআইডি (NSAID) বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে শরীরে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

২. প্রচুর তরল গ্রহণ:
ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ডিহাইড্রেশন বা পানির শূন্যতা। তাই রোগীকে দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার তরল খাবার পান করতে হবে। খাবার পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ডালের পানি এবং তরল ফলের জুস এ সময় দারুণ ভূমিকা রাখে।

৩. শারীরিক বিশ্রাম:
রোগীকে সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে রাখতে হবে। কঠোর পরিশ্রম বা অতিরিক্ত হাঁটাচলা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

৪. মশারির ব্যবহার:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে দিন-রাত সব সময় মশারির ভেতরে রাখতে হবে। এটি রোগীকে নতুন করে অন্য মশার কামড় থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্যদের মাঝে এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করে।

যেসব বিপদচিহ্ন দেখলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে
রোগীর অবস্থা অবনতি হলে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূল বিপদচিহ্নগুলো হলো:

পেটে তীব্র ব্যথা এবং ঘন ঘন বমি হওয়া।

নাক, মাড়ি কিংবা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা কালো পায়খানা হওয়া।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা প্রলাপ বকা।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই ডেঙ্গু দমনের প্রধান উপায়। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রত্যেকের বাড়ির আঙিনা, ফ্রিজ বা এসি-র ট্রে এবং গাছের টবে ৩ দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি