১৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা-সৌদি রুটে ১০০ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ঢাকা-সৌদি রুটে ১০০ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশগামী বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল/স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, সালাম এয়ারের সাতটি, কাতার এয়ারওয়েজের সাতটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং বিভিন্ন গন্তব্য হয়ে ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে অনেক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে সেখানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চলছে।


সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নির্ভর করছে বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর। ফলে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও অনেক যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নতুন ফ্লাইটে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিমানের ফ্লাইটগুলোতে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে কখনো কখনো ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের পরবর্তী ফ্লাইটে আবার সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে।

 

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি