১৬ মে ২০২৬

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ল

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ইসরাইল ও লেবানন তাদের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে শুক্রবার এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত থামানোর প্রক্রিয়াটি আরো কিছুদিনের জন্য দীর্ঘায়িত হলো। আগামী সপ্তাহগুলোতে এই বিষয়ে আরো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী রবিবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আরো অগ্রগতি নিশ্চিত করতে গত ১৬ এপ্রিলের সংঘাত নিরসন চুক্তিটির মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হবে।’

দুই দেশের মধ্যকার কয়েক দশকের সংঘাত মেটানোর উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই আলোচনাকে তিনি ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন দিনের মাথায়, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরাইল লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করার পর থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় বৈঠক। আলোচনার পর লেবানন ও ইসরাইলি প্রতিনিধিদল ইতিবাচক বিবৃতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের বোমাবর্ষণ এবং দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানের কারণে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রাথমিক আলোচনার পর গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দক্ষিণ লেবাননের ইসরাইল ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে এখনো মাঝেমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

সংঘাতের অবসান চায় লেবানন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসানের উদ্দেশ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমান্তরালেই লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চলছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরাইলি যুদ্ধ বন্ধ করা অন্যতম প্রধান শর্ত।

শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আপত্তি সত্ত্বেও লেবাননের প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে এবং সংঘাতের অবসান ঘটানোকেই তারা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলের দাবি, লেবাননের সঙ্গে যেকোনো বৃহত্তর শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে।

কয়েক দশকের মধ্যে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ, যা এখন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আরো বিস্তৃত হয়েছে।

টমি পিগট এক্স-এ জানিয়েছেন, আগামী ২৯ মে পেন্টাগনে এই আলোচনার একটি নতুন ‘নিরাপত্তা ট্র্যাক’ বা পথ শুরু হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে আগামী ২-৩ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারো উভয় পক্ষকে একত্রিত করবে।

পিগট বলেন, ‘আমরা আশা করি এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি, একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার পূর্ণ স্বীকৃতি এবং তাদের যৌথ সীমান্তে প্রকৃত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।’

লেবাননের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধবিরতির গতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করতে চায়।

‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিরাপত্তা ট্র্যাক প্রতিষ্ঠা আমাদের নাগরিকদের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দেবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতার দিকে রাজনৈতিক পথকে এগিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে প্রতিনিধিদল।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এই আলোচনাকে ‘স্পষ্ট এবং গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, উত্থান-পতন থাকবেই, তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পুরো আলোচনা জুড়েই আমাদের নাগরিক ও সৈনিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি