ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি থেকে ভারতীয় পরিবারের ৪ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
মিনারা হেলেন: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান মাতেও শহরের একটি বাড়ি থেকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই শিশুসহ চার জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উক্ত বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করলেও এটি হত্যাকান্ড না আত্মহত্যার ঘটনা তা এখনও নিশ্চিত হয়নি পুলিশ। পরিবারটিতে যাদেরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে তারা হলেন কেরালা রাজ্যের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৪২ বছরের আনন্দ সুজিত হেনরি। তার স্ত্রী ৪০ বছরের এলিস প্রিয়াঙ্কা এবং তাদের চার বছর বয়সী যমজ সন্তান নোয়া এবং নিথান।
ওই পরিবারের বাড়ির কেউ কল এটেন্ড না করায় এক আত্মীয় ওয়েলফেয়ার চেক চাওয়ার পরে পুলিশ মৃতদেহগুলো খুঁজে পায়। ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি আনন্দ এবং অ্যালিসকে একটি বাথরুমের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। যমজ বাচ্চাদেরকে একটি বেডরুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তাদের মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘আগত অফিসাররা কোনো সাড়া না পাওয়ায়, তারা বাড়ি ঘিরে তল্লাশি করে এবং বাড়িতে জোর করে কারোর প্রবেশের কোনো চিহ্ন দেখতে পাননি। একটি খোলা জানালা খুঁজে পেয়ে, অফিসাররা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং চারজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান’। বাথরুম থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও একটি লোডড ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
ওই দম্পতি ২০২০ সালে ২.১ মিলিয়ন ডলারে বাড়িটি কিনেছিলেন বলে রেকর্ড থেকে জানা গেছে। পুলিশের প্রাথমিক মূল্যায়ন এটি একটি সম্ভাব্য খুন এবং আত্মহত্যার ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও তারা অন্যান্য আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়নি।
সান মাতেও পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের কাছে এই সময়ে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে, এটি জনসাধারণের জন্য কোনো বিপদ ছাড়াই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। কারণ আমরা নিশ্চিত যে দায়ী ব্যক্তিটি বাড়ির মধ্যেই ছিল’।
কেরালার এই পরিবারটি গত ৯ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিল। আনন্দ, একজন সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং অ্যালিস, একজন সিনিয়র অ্যানালিস্ট। দুই বছর আগে নিউ জার্সি থেকে সান মাতেও কাউন্টিতে আসেন তারা। বন্ধুত্বপূর্ণ, পরিশ্রমী এবং নিবেদিত পিতামাতা হিসেবে পরিচিত এই দম্পতি প্রতিবেশী এবং সহকর্মী উভয়েরই পছন্দের ছিল।
আদালতের রেকর্ড অনুসারে, আনন্দ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালতে বিচ্ছেদ ঘটেনি।
সান মাতেও কাউন্টির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) মামলাটি হাতে নিয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সান মাতেও কাউন্টি ক্রাইম ল্যাবের সাথে কাজ করছে। মৃতদেহগুলোকে সান মাতেও কাউন্টি করোনারের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
কেসটি সাম্প্রতিক একটি ঘটনার সাথে একটি ভয়ঙ্কর সাদৃশ্য বহন করে যেখানে একটি ধনী ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি এবং তাদের কিশোরী কন্যাকে ম্যাসাচুসেটসে তাদের পাঁচ মিলিয়ন ডলারের প্রাসাদে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।
গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত সাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি আশ্বস্ত করেছেন যে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসাবে প্রমাণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি