ক্যারিয়ার শেষ করার ভাবনায় ছিলেন এমবাপ্পে
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা খুলে বললেন। ইউরো ২০২০-এ ব্যর্থ হওয়ার পর ভয়াবহ বর্ণবাদী নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি ফ্রান্স জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
২০২০ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের রাউন্ড অব ১৬-তে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্স হেরে যায়। সেই ম্যাচে নির্ধারক পেনাল্টি মিস করেন এমবাপ্পে। এরপরই তিনি জঘন্য বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন।
‘দ্য ব্রিজ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমাকে বানর বলে ডাকা শুরু হলো। আমার কাছে জাতীয় দল ছিল সব কিছু। কিন্তু গোল না করলে মানুষ তোমাকে একেবারে তলায় ফেলে দেয়। এটা জাতীয় দলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বদলে দিয়েছিল। সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা উচিত নয়, কারণ তারা ঝুড়িটা তুলে নিয়ে সরাসরি ছুড়ে মারে। পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে অনেক কষ্টের ছিল। আমি ছুটিতে গিয়েছিলাম আর আমি একটা জীবন্ত লাশ ছিলাম। অনেক উপর থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। জাতীয় দলের সঙ্গে খুব দ্রুত জাতীয় বীর হয়ে গিয়েছিলাম।’
২০১৮ বিশ্বকাপের নায়ক থেকে বর্ণবাদী গালির শিকার... এই ধাক্কা তখন মাত্র ২২ বছর বয়সী এমবাপ্পেকে দল ছাড়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) প্রেসিডেন্ট নোয়েল লে গ্রায়েতের সঙ্গে সেই উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি লে গ্রায়েতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম আমি আর খেলব না। আমি ভেবেছিলাম, আমি এমন মানুষদের জন্য খেলছি যারা গোল না করলে আমাকে বানর মনে করে। ভাবলাম, এদের জন্য খেলা সম্ভব না। বললাম, আমি প্যারিসে ফিরে যাচ্ছি, ওখানে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
তবে লে গ্রায়েত তাকে যেতে দিতে রাজি হননি। এমবাপ্পে জানান, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘তুমি মনে করছ এভাবেই অফিস ছেড়ে যাবে? ভুলে যাও।’ এই কড়া জবাবই এমবাপ্পেকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এমবাপ্পে ঘুরে দাঁড়ান। ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তিনি মূল ভূমিকা রাখেন। সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স হেরে যায়। বর্তমানে তিনি ফ্রান্স দলের অধিনায়ক। ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুর রেকর্ড ছোঁয়ার জন্য এমবাপ্পের দরকার মাত্র আর একটি গোল। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি