লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দাবি নাকচ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার জরুরি সংকেত দেওয়ার পর লোহিত সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে—ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সদস্য নিরাপদে রয়েছে। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, তাদের সবার অবস্থানও নিশ্চিত করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ‘দাবি: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে যে, গত রাতে জরুরি সংকেত দেওয়ার পর মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার লোহিত সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।’ কমান্ডটি আরো বলেছে, ‘তথ্য: লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর সত্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা সব মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ও সদস্য নিরাপদে আছে এবং তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ওই দাবি প্রচারের পর যুক্তরাষ্ট্র এ প্রতিক্রিয়া জানাল। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা, যারা দাবি করেছিল, একটি মার্কিন নৌবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা জানায়, লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন নৌবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ ৭৭০০ সংকেত পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এই সংকেত সাধারণ জরুরি অবস্থা জানানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
যাচাই করা একটি দেরিতে পাওয়া প্রতিবেদনের পর সংস্থাটি এ সতর্কতা জারি করে। প্রতিবেদনে কৌশলগত এই নৌপথে হামলার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানায়, ‘হরমুজ প্রণালির ভেতরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিষয়ে আমরা দেরিতে পাওয়া একটি প্রতিবেদন পেয়েছি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বাইরে যাওয়ার পথে থাকা একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সংস্থাটি জানায়, ‘কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড দেখলে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে।’
এ হামলার ঘটনায় সংকীর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এর আগে ওই এলাকায় সামরিক সতর্কতা এবং জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে আলাদা কয়েকটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার জুনের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তিনি এ কথা বলেন। গালিবাফ বলেন, ‘ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার সামনে আমেরিকানরাও এখন মরিয়া হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে তারা ভিন্ন কথা বললেও সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।’
গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটনের একতরফা দাবি ইরান মেনে নেবে না। হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি সাতটি শর্ত পূরণের সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এসব কথা বলা হলো। জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার পর এই উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ এবং পরবর্তী আলোচনার পথ তৈরি করাই ছিল ওই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সমঝোতার কাঠামোর আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল।
মধ্যস্থতার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছিল। দুই দেশের প্রধান আলোচকেরা নিয়মিত ওই কমিটির কাছে অগ্রগতির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে তারা পরমাণু ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা বাস্তবায়নে নজরদারি ও বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।
জুলাইয়ে ওই সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আবারও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার এক সপ্তাহ পর মুখ খুললেন ক্রিস্টা পাইক
সঙ্গীত একাডেমি