১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্ত্রাসী হামলায় ৬ নিরাপত্তাকর্মী নিহত, পাল্টা হামলায় ২১ সন্ত্রাসী নিহত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
সন্ত্রাসী হামলায় ৬ নিরাপত্তাকর্মী নিহত, পাল্টা হামলায় ২১ সন্ত্রাসী নিহত

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বেলুচিস্তানে আবারও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে রাত। একদিকে কাস্টমস হাউসে সমন্বিত হামলা চালিয়ে প্রবেশের চেষ্টা, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা—পরপর এমন তৎপরতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান।

নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২১ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। তবে সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই কর্মকর্তা ও কাস্টমস বিভাগের এক কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। খবর ডনের।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চাগাই ও পিশিন জেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

আইএসপিআরের ভাষ্য, কাস্টমস হাউসে হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিত। হামলাকারীরা ভবনটিতে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সংঘর্ষের পর ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা।

হামলার সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই কর্মকর্তা, চার নিরাপত্তাকর্মী এবং কাস্টমস বিভাগের এক কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জন প্রাণ হারান। তাদের আত্মত্যাগকে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ নজির হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর।

কাস্টমস হাউসই কেন লক্ষ্য?

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দাবি, কাস্টমস হাউসে হামলার পেছনে শুধু নিরাপত্তা স্থাপনায় আঘাত হানার উদ্দেশ্য ছিল না। এর সঙ্গে স্থানীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের আইনসম্মত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

হামলার পর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবশিষ্ট হামলাকারীদের খুঁজে বের করা এবং স্থানীয় জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মহাসড়কেও চাঁদাবাজির ফাঁদ

কাস্টমস হাউসের ঘটনার পাশাপাশি ৩১ আগস্ট আরেকটি বড় তৎপরতার খবর দিয়েছে আইএসপিআর। চাগাই এলাকায় কোয়েটা-তাফতান N-40 মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চলাচল ব্যাহত করতে সন্ত্রাসীরা একটি অবৈধ চেকপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা করে।

আইএসপিআরের দাবি, চেকপোস্টটি স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করা। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত সেখানে পৌঁছে অভিযান চালায়। সংঘর্ষে ১১ সন্ত্রাসী নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে সামরিক বাহিনী।

একের পর এক হামলা, পাল্টা অভিযানে চাপ

বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার চাগাই এলাকায় রেকো ডিক তামা ও সোনার প্রকল্পের যানবহরে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ১২ সন্ত্রাসীকে হত্যার কথা জানিয়েছিল।

একই দিনে ওয়াশুক জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও দুই সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর আসে।

অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানেই চাগাই ও আশপাশের এলাকায় হামলা, সড়ক অবরোধ, চাঁদাবাজি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

‘বিদেশি মদদ’ নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ

আইএসপিআর এসব ঘটনায় জড়িতদের ভারত-সমর্থিত প্রক্সি এবং পাকিস্তানের ভাষায় ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী বেলুচিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির অধীনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

সামনে আরও কঠিন লড়াই?

বেলুচিস্তানের সর্বশেষ ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন হামলা নয়—নিরাপত্তা স্থাপনা, মহাসড়ক, অর্থনৈতিক প্রকল্প এবং সরকারি কার্যক্রমকে ঘিরে একাধিক চাপ তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে সশস্ত্র হামলা ঠেকানো, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা।

কাস্টমস হাউসে হামলা এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজির চেষ্টার ঘটনায় দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু ধারাবাহিক হামলার এই প্রবণতা প্রশ্ন তুলছে—বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা অভিযান যতই জোরদার হোক, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা কি সত্যিই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার ওপর।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি