২৪ আগস্ট ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব: এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব: এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি

ডিএইচএস সোমবার এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন একটি প্রস্তাবিত বিধি জারি

আবু সাবেত: ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সোমবার এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন একটি প্রস্তাবিত বিধি জারি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জন্য আসতে ইচ্ছুক এবং বার্ষিক নির্ধারিত ভিসা কোটার আওতাভুক্ত প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধির নোটিশে বলা হয়েছে, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনায় ফেডারেল সরকারের যে ব্যয় হয়, তা মেটাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ডিএইচএসের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং শ্রম বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রস্তাবিত এইচ-১বি ফি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বৈধ অভিবাসন কর্মসূচির আবেদন যাচাই-বাছাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সহায়তা প্রদানে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সংস্থার যে ব্যয় হয়, তা আদায় করা যায়। অন্যথায় এসব ব্যয় করদাতাদের অর্থ থেকে বহন করতে হয়।”

গত জুনে একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের আগে প্রস্তাবিত এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল করে দেওয়ার পর নতুন এই প্রস্তাব সামনে এলো।

ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ লিও সোরোকিন রায় দিয়েছিলেন, ভিসা আবেদনের ওপর এ ধরনের কর আরোপ করা বেআইনি। কারণ অভিবাসন নীতি ও কর নির্ধারণের আইনগত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে।

আগের প্রস্তাবটি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। তবে ডিএইচএসের নতুন প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান নতুন ফি দ্বারা প্রভাবিত হবে না।

ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ডেভিড বিয়ার দ্য হিলকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, প্রশাসন নতুন ফিটিকে ‘ব্যয় পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করছে। অথচ আগের ফি চালুর পর আবেদন প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছিল এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছিল ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

তিনি বলেন, সরকার নিজেই আদালতে স্বীকার করেছিল যে ১ লাখ ডলারের ফি কার্যত আবেদন নিরুৎসাহিত করার মতো এবং তা রাজস্বও সৃষ্টি করে না।

বিয়ার আরও বলেন, রাজস্ব আদায় হলেও শুধু সেই কারণে ফিটি বৈধ হয়ে যাবে না। কারণ অভিবাসন-সংক্রান্ত ফি কেবল আবেদন নিষ্পত্তি ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত পরিষেবার ব্যয় পুনরুদ্ধারের জন্য আরোপ করা যেতে পারে।

তাঁর মতে, এটি যেহেতু আবেদন দাখিলের ফি, তাই ইউএসসিআইএস আবেদন অনুমোদন করবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই নিয়োগকর্তাকে এই বিপুল অর্থ দিতে হবে। অনুমোদনের নিশ্চয়তা না থাকায় এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ ঝুঁকিতে ফেলতে খুব কম প্রতিষ্ঠানই আগ্রহী হবে।

বছরে এইচ-১বি ভিসার সীমা ৮৫ হাজার

নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য প্রচলিত বার্ষিক আইনগত সীমা ৮৫ হাজার। এর মধ্যে সাধারণ কোটায় ৬৫ হাজার ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স বা উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ রয়েছে।

সাধারণ ৬৫ হাজার ভিসার মধ্যে ৬ হাজার ৮০০টি শুধু চিলি ও সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।

বিশেষায়িত ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত।

বাইপার্টিসান পলিসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য। এর মধ্যে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তার মতো পেশা উল্লেখযোগ্য।

প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রকাশের পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবটির ওপর মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি