১৭ মে ২০২৬

ভাসমান অভিবাসীর জোয়ার ঠেকাতে নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
ভাসমান অভিবাসীর জোয়ার ঠেকাতে নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক মাত্রাতিরিক্ত ভাসমান অভিবাসী আসার কারণে সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস। গত এপ্রিল থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি অভিবাসী দক্ষিণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে শহরে ঢুকেছেন। তাদেরকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষকে। এমন বাস্তবতায় তিনি জরুরি অবস্থা জারি করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত টেক্সাস, আরিজোনা ও ফ্লোরিডা রিপাবলিকান শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে নিউ ইয়র্কে অভিবাসন আবেদন পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অঙ্গরাজ্যগুলো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের পাঠানো শুরু করে। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশী হাজির হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের সঙ্গে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যগুলোর মতভেদের জের ধরে এ ঘটনা ঘটছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র অ্যাডামস শুক্রবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি বাস অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে নগরীতে এসে হাজির হচ্ছে। এখন নগরীর আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর প্রতি পাঁচ জন বাসিন্দার একজন অভিবাসন প্রত্যাশী। যারা আসছেন তাদের মধ্যে অনেক পরিবারে স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশু আছে আর তাদের অনেকেরই জরুরি চিকিৎসা সেবা দরকার। অভিবাসন প্রত্যাশীরা এই হারে আসতে থাকায় চলতি অর্থবছরে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, এই ব্যয় বহনের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। মেয়র অ্যাডামস আরও বলেন, নিউ ইয়র্কবাসী ক্ষুব্ধ। আমিও ক্ষুব্ধ। আমরা এটা চাইনি। নিউ ইয়র্ক তার সামর্থ্যরে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ‘অন্যরা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে’ নিউইয়র্ক নগরীর সামাজিক বিভাগকে চাপে ফেলছে। এই চাপ থেকে উদ্ধার এবং অর্থিক বিষয়টির দিকে নজর রেখে এ বিষয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। টেক্সাস, আরিজোনা ও ফ্লোরিডা- এই তিনটি অঙ্গরাজ্য অভিবাসন প্রত্যাশীদের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন এলাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ কমাতে এ কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে সীমান্তবর্তী মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তগুলো অতিক্রম করে প্রবেশ করতে থাকা অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা কমাতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন যেন আরও কিছু করে সে বিষয়ে চাপ বাড়াতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। আদেশের অংশ হিসেবে মেয়র সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সহায়তা দেওয়ার জন্য মানবিক ত্রাণকেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়র বলেন, নিউ ইয়র্ক এই অর্থবছরে আরও ১০০ কোটি ডলার খরচ করবে। তিনি সরকারের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সংকট 'আমাদের শহরের বাজেটের জন্য বড় বোঝা'। সীমান্ত-সংলগ্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের চাপে রয়েছে নিউইয়র্ক ও অন্যান্য শহর। এসব শরণার্থীর অনেকেই ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে সহিংসতার কারণে পালিয়ে এসেছেন। মেক্সিকো সীমান্তে তাঁরা জড়ো হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অ্যাডামস এটিকে সংকটময় পরিস্থিতি বলছেন। ১৯৮০ সালের আইনের অধীনে নিউইয়র্কে যাঁর প্রয়োজন, তাঁর আবাসনের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক। এতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র মানবিক কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘদিন ধরেই শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি