পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন
যে কারণে কলকাতার পূজার আনন্দ রূপ নিল বিষাদে
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টি, ছুটির দিনের উপচে পড়া ভিড় এবং প্যান্ডেলে প্রবেশ ও বেরোনোর সংকীর্ণ পথ। এই একাধিক কারণে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে দুর্ঘটনার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা।
এক স্থানীয় বাসিন্দার মেয়ে ও নাতনি এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে জানান, প্যান্ডেলের প্রবেশপথ অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল। বেরোনোর গেটও ছিল ছোট। গোটা এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না।
ওই ব্যক্তি বলেন, প্রবেশপথে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভিতরে ঢোকার জন্য মানুষ তাড়াহুড়ো করছিলেন। এলাকাটি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং চারপাশ অন্ধকারে ঢাকা ছিল। কোথাও আলোও ছিল না। অন্ধকারের কারণে দু’জন রাস্তায় পড়ে যান। তাদের মধ্যে একটি ছোট মেয়ে ও একটি ছেলে ছিল। তিনিও পড়ে গিয়েছিলেন বলে জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
তিনি আরও বলেন, কোনওরকমে তিনি উঠে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। সেই সময় তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ছোট মেয়ে ও ছেলেটির উপর বহু মানুষ পড়ে গিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে কোনও পুলিশকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না। সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় বহু মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেককে মোটরবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্যান্ডেলের একটি অংশ ভেঙে পড়েছিল বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে সংকীর্ণ গলির মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এক প্রবীণ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যান্ডেলের বাইরে অপেক্ষা করা মানুষের ভিড় ভিতরে দিকে এগিয়ে যায়। সেই সময় কয়েকজন রাস্তায় পড়ে যান। এরপরই পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্ক, অর্থাৎ চোরবাগান পুজো প্যান্ডেলের বেরোনোর গেটে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে পূজা দেখতে আসা মানুষের বিপুল ভিড়ের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহত সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি সমাজমাধ্যম এক্সে লেখেন, আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, যাতে আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারগুলি শক্তি ও সাহস পায়।
উত্তর কলকাতার চোরবাগান, হাটিবাগান ও বিডন স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকার অন্যতম পুরনো সর্বজনীন দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো বিশেষ পরিচিত। মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের রামমন্দিরের কাছে অবস্থিত এই পুজো প্রতিবছর আয়োজিত হয়। প্রায় ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই পুজোর ঐতিহ্য।
উৎসবের মৌসুমে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত আলো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে আসা সংকীর্ণ রাস্তা, অন্ধকার এবং বৃষ্টির মধ্যে মানুষের তাড়াহুড়ো দুর্ঘটনার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। সূত্র: এনডিটিভি
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
বিশ্বজুড়ে ১০ বছরে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি শিশু অভিবাসীর মৃত্যু: আইওএম
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চেয়ে সৌদিকে চিঠি
সঙ্গীত একাডেমি