যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ সংশোধনী কি এখন কাগজে বন্দী?
মুখোশ। বন্দুক। ট্যাকটিক্যাল পোশাক
ছাবেদ সাথী
মুখোশ। বন্দুক। ট্যাকটিক্যাল পোশাক। কাউকে মাটিতে চেপে ধরা। বাড়ি থেকে টেনে বের করা। এই দৃশ্যগুলো আর ব্যতিক্রম নয় এগুলোই এখন আমেরিকার অভিবাসন নীতির প্রতীক। প্রশ্নটা আর নীতি নিয়ে নয়। প্রশ্নটা এখন সংবিধান নিয়ে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যখন বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার অধিকার দাবি করে, তখন সেটি শুধু অভিবাসন অভিযান থাকে না তা হয়ে ওঠে চতুর্থ সংশোধনীর ওপর সরাসরি আঘাত।
মার্কিন রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারের বিজ্ঞাপন যেন নিজেরাই তৈরি হয়ে যাচ্ছে। মুখোশধারী সরকারি এজেন্ট, ট্যাকটিক্যাল পোশাক, হাতে অস্ত্র কাউকে মাটিতে চেপে ধরা বা তুষারের মধ্যে বাড়ি থেকে আধা-নগ্ন অবস্থায় টেনে বের করার দৃশ্য। অন্যদিকে, সাধারণ আমেরিকানদের মতো দেখতে প্রতিবাদকারীরা চিৎকার করছে, ভিডিও তুলছে। এসব দৃশ্য ভোটারদের মনে গভীর অস্বস্তি তৈরি করছে এবং গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলছে।
দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসীদের ঢলের ছবি দেখে মানুষ যতটা আতঙ্কিত হয়েছিল, এখন ফেডারেল অভিবাসন বাহিনীর সঙ্গে চলমান রুক্ষ সংঘর্ষের ছবি দেখে তারা অন্তত ততটাই, বরং আরও বেশি, বিচলিত।
এ মুহূর্তে নজর মিনিয়াপোলিসে। তবে একই ধরনের ঘটনা ও প্রতিবাদ মিছিল দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রতিবারই কোনো সংঘর্ষ ঘটলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল হলে, তদন্তের আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ও আইসিই দাবি করছে—এজেন্টরা যা করেছে, সবই ন্যায্য। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চরিত্রহনন।
কিন্তু অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তার বক্তব্য ভিন্ন। ভিডিও প্রমাণ সব সময় প্রশাসনের দাবিকে সমর্থন করে না। সাধারণ মানুষের পক্ষে ঠিক–ভুল আলাদা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এটাই রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ চতুর্থ সংশোধনীর মৌলিক সুরক্ষা পাশ কাটিয়ে 'প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট' ব্যবহার শুরু করেছে। এতে বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই সংস্থার অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে কারও বাড়িতে ঢোকার পথ খুলে গেছে। এর ফলে ভুলবশতও বাড়িতে হানা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
প্রশাসন বলছে, অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকদের মতো অধিকার নেই। কিন্তু সত্য হলো, তাদের অধিকার আছে আর সেগুলোর সীমানা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সাংবিধানিক বিতর্ক। এটি আইন ও শৃঙ্খলা। কিন্তু আইন যদি বিচারকের দরজা এড়িয়ে চলে, তবে সেটি শৃঙ্খলা নয় তা ক্ষমতার শর্টকাট।
অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকের মতো অধিকার নেই হতে পারে। কিন্তু তাদের কোনো অধিকার নেই এ কথা সংবিধান বলে না।
আজ প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট, কাল কী?
ভিডিওতে যখন দেখা যায় মানুষ মাটিতে, মুখে পেপার স্প্রে, শরীরে গুলি—তখন প্রশাসনিক ভাষা আর জনমনে কাজ করে না।
এই প্রশাসন সীমান্তে শক্ত অবস্থানের জন্য সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু ঘরে ঢুকে পড়ার দৃশ্য সেই সমর্থন গলিয়ে দিচ্ছে।
রক্ষণশীলদের মনে রাখা দরকার সংবিধান শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনী নয়। চতুর্থ সংশোধনীও সমান পবিত্র।
কারণ যেদিন বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়া দরজা ভাঙা স্বাভাবিক হবে, সেদিন আর কোনো দরজাই নিরাপদ থাকবে না।
ট্রাম্পের সমস্যা এখানে বাস্তবতার চেয়েও উপলব্ধি। এমনকি আইসিই কোথাও আইন মেনেও কাজ করে থাকলে, মুখোশধারী সশস্ত্র এজেন্টদের কাউকে মাটিতে ফেলে দেওয়া বা টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভোটারদের মনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ জন্মাচ্ছে।
সীমান্তে ট্রাম্প প্রশংসা পেলেও, বহিষ্কার কৌশল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করছে। জরিপ বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকান আইসিইর কাজের ধরনে অসন্তুষ্ট।
রক্ষণশীলদেরও এখানে থামা উচিত। সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে—এটাই তো তাদের ঐতিহাসিক সতর্কতা। সংবিধানের তৃতীয় থেকে অষ্টম সংশোধনী, বিশেষ করে চতুর্থ সংশোধনী, ঠিক এই কারণেই আছে।
যেদিন মানুষ চোখের দেখা অস্বীকার করবে, সেদিনই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে।
ডেমোক্র্যাটরা যখন নির্বাচনী মাঠে নামবে, তখন তাদের প্রচার বার্তা একটাই হবে—কোন দল চতুর্থ সংশোধনীর সুরক্ষা থেকে সরে এসেছে।
ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক বাংলা প্রেস।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি