২৩ মে ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃত্যু বেড়ে ১৭৭

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:২৬ এএম
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃত্যু বেড়ে ১৭৭

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলায় মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ ব্যবস্থাপনার পর রেডক্রসের কর্মীরা এ কাজে ব্যবহৃত সব সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করে নিচ্ছেন। ২১ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলার এবারের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সহায়তা সংস্থাগুলো ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এটি মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের জন্য তাদের আহ্বানও ছিল আবেগপূর্ণ ও জোরালো।

নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ধাক্কায় আফ্রিকার দেশটি যখন বিপর্যস্ত, তখন উদ্বেগ বাড়ছে সেখানকার দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় এ পর্যন্ত যতজন ইবোলায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন বা মারা গেছেন, প্রকৃত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এ প্রাদুর্ভাব সামাল দিতে হিমশিম খেতে হবে।গত বৃহস্পতিবার বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) মার্সি কোরের ডিআরসি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোজ টচওয়েনকো বলেন, এবার প্রাদুর্ভাবের পর ইবোলা যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

রোজ আরও বলেন, এটি আরও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন বাস্তব। তাই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও সহায়তা জরুরি।

১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ১৭তম বারের মতো ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ইবোলা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এতে মৃত্যুহার প্রায় ২৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলার প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও ১৭৭টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

দেশটিতে এবার ইবোলায় প্রথম মৃত্যু শনাক্ত হয় গত ২৪ এপ্রিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উত্তর–পশ্চিমের ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় মারা যান। কাছের শহর মংবালুতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় শোকাহত অনেকে মরদেহ স্পর্শ করেছিলেন। সেখান থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুতই রোগীর চাপ বাড়তে থাকে।বৃহস্পতিবার বুনিয়ার কাছাকাছি রুয়ামপারা এলাকায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে ওই কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ইবোলা সংক্রমণে মারা গেছেন—এমন সন্দেহ থেকে একটি মরদেহ হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা নিজেরাই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে চেয়েছিলেন, এ নিয়ে বিরোধ থেকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

রোগটি ছড়িয়ে পড়া রোধে কর্তৃপক্ষ সাধারণত অত্যন্ত সংক্রামক মৃতদেহগুলোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু কিছু পরিবার সেটা মানতে রাজি হচ্ছে না। গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ঐতিহ্য অনুযায়ী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করার রীতি রয়েছে। আগের প্রাদুর্ভাবগুলোতেও দেখা গেছে, এ ধরনের আচার-অনুষ্ঠান রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: প্রথম আলো

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

FIRDAUS FASHIONS


FIRDAUS FASHIONS

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি