২০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পিপিপি ঋণ জালিয়াতি মামলায় আরও ৬ জন অভিযুক্ত, গ্রেপ্তার ৩

৮৩ লাখ ডলারের তহবিল জালিয়াতি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে পিপিপি ঋণ জালিয়াতি মামলায় আরও ৬ জন অভিযুক্ত, গ্রেপ্তার ৩

যুক্তরাষ্ট্রে পিপিপি ঋণ জালিয়াতি মামলা

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস এলাকায় ৮৩ লাখ ডলারের একটি মহামারি-সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় ছয়জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা অন্তত ৪০টি ভুয়া আবেদন জমা দেয় পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) ঋণ এবং ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (ইআইডিএল)-এর জন্য। এই ঋণগুলো কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তাদের কর্মীদের সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছিল।
মোট হিসেবে এই জালিয়াতির মাধ্যমে তারা অন্তত ৮৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯৩ ডলার আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ-এর তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ওয়্যার ফ্রড,পরিচয় চুরি, অর্থপাচার এবং ষড়যন্ত্র।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
রেমন্ড পোর্টার জুনিয়র (৬৪), সেন্ট লুইস -১৫টি ওয়্যার ফ্রড, ৮টি পরিচয় চুরি, ৪টি অর্থপাচার এবং ১টি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ডেভিড হোলমন (৫৪), অলিভেট- ১০টি ওয়্যার ফ্রড, ৫টি পরিচয় চুরি, ২টি অর্থপাচার এবং ১টি ষড়যন্ত্র
মনিকা বাটলার (৫৯), সেন্ট লুইস-৭টি অর্থপাচার, ৪টি ওয়্যার ফ্রড এবং ১টি ষড়যন্ত্র
ডানা কেলি (৪৭), সেন্ট লুইস-৩টি ওয়্যার ফ্রড, ১টি অর্থপাচার এবং ১টি ষড়যন্ত্র
আলেকজান্ডার সিম্পসন (৩৯), সেন্ট লুইস-৩টি ওয়্যার ফ্রড, ১টি অর্থপাচার এবং ১টি ষড়যন্ত্র
লাট্রিস ডেভিস (৪০), সেন্ট চার্লস-২টি ওয়্যার ফ্রড, ১টি অর্থপাচার এবং ১টি ষড়যন্ত্র
শুক্রবার পোর্টার, হোলমন এবং ডেভিসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, পোর্টার ও হোলমন ডেভিসের সহায়তায় নিজেদের ব্যবসার পাশাপাশি অন্যদের ব্যবসার নামেও ভুয়া ঋণের আবেদন করতেন। অনুমোদিত ঋণের ১০ থেকে ২০ শতাংশ তারা ‘কনসালটিং’ বা ‘যন্ত্রপাতি কেনা’ বাবদ ফি হিসেবে নিতেন এবং এর একটি অংশ ডেভিসকে দিতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ব্যবসার মালিকদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল ও আর্থিক নথি তৈরি করতেন এবং অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা আর্থিক তথ্য ও বেতন সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে ঋণের আবেদন করতেন। পাশাপাশি ঋণের অর্থ গ্রহণের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দিতেন এবং প্রকৃত মালিকানার তথ্য গোপন রাখতেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পোর্টার ও হোলমন সরাসরি ১৪ লাখ ডলারের বেশি ঋণ পেয়েছেন এবং ‘প্রসেসিং ফি’ হিসেবে আরও ৯ লাখ ডলার গ্রহণ করেছেন। এছাড়া বাটলার, কেলি ও সিম্পসনের জন্যও বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করাতে তারা ভূমিকা রাখেন।
তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্তরা এই অর্থ বৈধ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত খরচে ব্যয় করেছেন যার মধ্যে রয়েছে গাড়ি কেনা, ঋণ পরিশোধ, বাড়ি সংস্কার এবং বিলাসবহুল পণ্য ক্রয়।
সেন্ট লুইস ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ উইলিয়াম স্টিনসন বলেন, 'এই কর্মসূচিগুলো কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে এসব সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে, আমরা তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ তদন্ত চালাই।'
এই তদন্তে ফেডারেল তদন্ত ব্যুরো, আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর যৌথভাবে কাজ করেছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি